• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

রেকর্ড তাপমাত্রা ও দাবানলের শঙ্কা: এল নিনো নিয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫০
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে চলমান দাবানল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই মারাত্মক রূপ নিচ্ছে প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা 'এল নিনো'। আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলবে। জাতিসংঘের এই আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমিক এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এল, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বনভূমি দাবানলে জ্বলছে এবং দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব মাত্র; এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সাথে সাথে জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।"

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। সমুদ্রের জলের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

এমতাবস্থায়, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর সম্মিলিত নেতিবাচক প্রভাব রুখতে বিশ্বনেতাদের অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। বিশেষ করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প সম্প্রসারণ বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।

ডব্লিউএমও-র পূর্বাভাস অনুযায়ী—আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এর তীব্র প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে বলেন, "পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না, মানুষকেই পদক্ষেপ নিতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে আগাম সতর্কবার্তাকে এখন বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।"

বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো যখন চরমে পৌঁছাবে, তখন এর তীব্রতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।