• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

'ইটস টু মাচ, আমি আর ভারতে ঢুকব না'; দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনার বর্ণনা দিলেন উপদেষ্টা জাহেদ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২২
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে ভারতের আচরণের বিরুদ্ধে 'তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিতে রাষ্ট্র বা সরকারের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে কাউকে কোনো সুবিধা দেবে না বর্তমান সরকার। এটি শেখ হাসিনার সরকার না, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার।"

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, "আমি ওখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে, তার একটা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা দরকার ছিল। সে কারণেই আমি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা পর্যায়ে তারা (ভারত কর্তৃপক্ষ) খুব চেষ্টা করেছে যেন আমি ভারতে প্রবেশ করি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তখন আমার মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটা ‘সিগনেচার’ বা কড়া বার্তা থাকা দরকার।"

তিনি আরও বলেন, "জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সব জায়গায়—সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা বিবেচনায় নিতে হয়।" তবে এই ঘটনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কোনো নেতিবাচক বা পাল্টা-পাল্টি পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তিনি চান না বলে উল্লেখ করেন।

পাসপোর্ট নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "কূটনৈতিক পাসপোর্ট আমি নেইনি, তবে ওটা কোনো কারণ ছিল না। আমার সাধারণ পাসপোর্টে ‘সার্ক স্টিকার’ দেওয়া ছিল, যা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই কার্যকর। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্টই কারণ ছিল, কিন্তু আসল কারণ অন্য কিছু, যা ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও কম-বেশি এসেছে।"

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, "রবিবার সন্ধ্যায় আমি প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাই। আমার সঙ্গে থাকা বাকি সদস্যরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে চলে গেলেও আমার সময় তারা দীর্ঘ সময় নিচ্ছিল এবং নানান জনের সঙ্গে কথা বলছিল। দিল্লিতে নিযুক্ত আমাদের হাই কমিশনার শুরু থেকেই আমার পাশে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুই ঘণ্টার মাথায় আমার মনে হয়েছে—ইটস টু মাচ! এই পদের প্রতি যে সৌজন্য দেখানো উচিত ছিল, তার ঘাটতি ছিল। তাই আমি আর ভারতে না ঢোকার সিদ্ধান্ত নিই এবং ভারতের ইমিগ্রেশন ক্রস না করেই কলম্বো হয়ে সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফিরি।"

এই ঘটনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো চাপ তৈরি করবে কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা উচিত না। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিপরীতে নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। এর পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বিষয়টি অলরেডি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে গেছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।"

উল্লেখ্য, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন গত শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সফরের বিষয়ে অবহিত করেছিল। কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে আটকে দেয়। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে ভারতকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান।