আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যবিপ্রবির ৮৫ ছাত্রীর মধ্যে সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন ২৩ জন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫২
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৮৫ ছাত্রী পুলেরহাট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার এদের মধ্য থেকে সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন ২৩ ছাত্রী। চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীদের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই বলে জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাতে ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার খেয়ে ভোর চারটা থেকে অসুস্থ হতে থাকেন তারা। তাদের মধ্যে ৮৫ জনের অধিক শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাদের। সেখানে সংকুলান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার অসুস্থ এসব ছাত্রীদের জরুরি ভিত্তিতে আনা হয় যশোর শহরতলির পুলেরহাটের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করে যবিপ্রবি’র ছাত্রীদের জরুরী চিকিৎসা সেবায় নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করছেন। প্রথমে জরুরী বিভাগে রেখে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন মেডিকেল অফিসারা।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এএসএম রিজওয়ান জানালেন, তারা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ায় সচেষ্ট রয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খাবার থেকে প্রদাহ হয়ে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের কারণে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়েছে। কারো কারো অবস্থা বেশ জটিল ছিল। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বেশিরভাগ ছাত্রী সুস্থ হয়ে তাদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী’।
শুক্রবার ছাত্রীদের অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে দেখতে যান যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
এদিকে শনিবার সকালে অসুস্থ ছাত্রীদের ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসার সার্বিক খোজ খবর নেন এবং তাদের শান্তনা দেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। এসময় তিনি সেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সদের জরুরী নির্দেশনা দেন।
সহপাঠীদের দেখতে পাশে দাড়িয়েছেন যবিপ্রবি’র অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। তারা চিকিৎসার খোজ খবর রাখছেন এবং ওষুধ, খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেন চিকিৎসারত ছাত্রী, তাদের সহপাঠী ও অভিভাবকরা।
যবিপ্রবি’র অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যয় সাহা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। আইসিইউতে নেয়া লেগেছে। রক্ত লেগেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৩ জন শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। চিকিৎসারত ছাত্রীদের অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। হাসপাতালের ডাক্তার নার্সদের ব্যবহার ভাল ছিল বলেও জানান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী ফাইজা আঞ্জুম বলেন, ‘আমার ক্লাসমেট অসুস্থ হয়ে এখানে ভর্তি আছে যেনে আমি দেখতে এসেছি। আন্তরিকতার সাথেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন বলে দাবি করেন’।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হওয়ায় এতগুলো রোগীকে এক সাথে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো: ইমদাদুল হক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :