• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: বিচারহীনতা কি নতুন আন্দোলনের জন্ম দিচ্ছে?


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল ‘বিচার ও ইনসাফ’। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত খুনিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সেই আকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গতকাল শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের দেওয়া ‘সরকার পতনের আলটিমেটাম’ কেবল একটি সংগঠনের হুঙ্কার নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন।

ওসমান হাদিকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো? ইনকিলাব মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বিদেশি সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছিলেন। যদি এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য এক অশনিসংকেত।

সরকার বলছে তদন্ত চলছে এবং আগামী ৭ জানুয়ারি চার্জশিট দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে—তদন্ত কি কেবল সরাসরি জড়িত দু-একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কুশীলব বা মাস্টারমাইন্ডদেরও মুখোশ উন্মোচন করা হবে? শুধু ফয়সাল করিম মাসুদের মতো দু-একজনকে আসামি করে চার্জশিট দিলে তা যে জনমনে স্বস্তি আনবে না, সেটি গতকালের শাহবাগ অবরোধই প্রমাণ করে।


ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যেকোনো বড় পরিবর্তনের শুরু হয় শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ৭ জানুয়ারির পর ‘সরকার পতনের আন্দোলন’-এর যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং যেকোনো হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

শহীদ ওসমান হাদির বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার আবর্তে পড়ে কিংবা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার বলি হয়, তবে তা এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দেবে। ৭ জানুয়ারির মধ্যে সরকার কি পারবে প্রকৃত অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জনমনে আস্থার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করতে? নাকি রাজপথ আবারও উত্তাল হবে নতুন কোনো এক দফার দাবিতে? উত্তরটি সময়ের গর্ভেই নিহিত।