‘জুলাই সনদ’ ভুলে গেলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না: সরকারকে এবি পার্টির হুঁশিয়ারি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবগঠিত সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে চরম নির্যাতিত হওয়ার পরও যদি বর্তমান সরকার বিচার ছাড়া তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা বা ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দল। শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা যেন কোনোভাবেই ভূলুণ্ঠিত না হয়।” তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এবং আগের সরকারের শুরু করা সংস্কার কাজগুলো দৃঢ়ভাবে চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী দল’ হিসেবে অভিহিত করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান প্রশ্ন তোলেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তারা কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খোলার সাহস পায়? তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্রদের ওপর আক্রমণের তথ্যপ্রমাণ সবার কাছে স্পষ্ট। বিচার ছাড়া ‘জালেমদের’ পুনর্বাসন বা ক্ষমা করার মতো কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন না করতে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
নির্বাচন পরবর্তী কারচুপি ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, টিআইবি’র রিপোর্ট অনুযায়ী ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। ‘চর দখলের মতো’ নির্বাচনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে আমূল সংস্কারের দাবি জানান তিনি। এছাড়া সাংবাদিক, পুলিশ ও চিকিৎসকদের জন্য উন্নত বিশ্বের মতো ‘পোস্টাল ব্যালট’ বা আগাম ভোটের বিধান চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানোর প্রস্তাবকে সমর্থন জানায় এবি পার্টি। একইসঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং আমলাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল মুখে নয়, কাজেও দেখাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অহংকারী না হয়ে জনগণের প্রতি বিনয়ী হবে এবং একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে।
আপনার মতামত লিখুন :