• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরের রাজারহাটে জমেনি কোরবানি পরবর্তী দ্বিতীয় চামড়ার হাট


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬, ১৪:৪০
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটে ঈদের পর দ্বিতীয় চামড়ার হাটও জমেনি। সরবরাহ যেমন আশানুরূপ নয়, তেমনি দাম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আজ মঙ্গলবার বসা এই হাটে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চামড়ার আমদানি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। হাট সংশ্লিষ্টদের দাবি, এদিন ৫ হাজার চামড়াও বাজারে ওঠেনি। চামড়ার এমন আকস্মিক নিখোঁজ ও বাজারে না আসার পেছনে সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাটের ইজারাদার।

​সরেজমিনে রাজারহাট ঘুরে দেখা যায়,ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। বড় কোনো ট্যানারি মালিক বা বাইরের অঞ্চলের বড় ব্যাপারিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। মাত্র গুটি কয়েক স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ী চামড়া কেনাবেচা করছেন।

​ঢাকা হেমায়েতপুর থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী ইউসুফ শামীম জানান, "আমরা সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ীই কেনাকাটা করছি। ভালো মালের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৮০০ টাকা রেট সঠিক আছে। তবে কাটিং বা বাছুরের চামড়া তো আর সরকারি রেটে বিক্রি হবে না। তবে আমাদের কেনাকাটা চলছে, ইনশাআল্লাহ সামনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।"

​তবে মাঠ পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। লোকসানের আশঙ্কায় তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি ১৪ পিস চামড়া কিনেছিলাম প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকায়। অথচ আজ হাটে এসে দেখছি সেই চামড়ার দাম উঠছে মাত্র ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। খরচসহ হিসাব করলে আমার বড় অঙ্কের টাকা লোকসান যাচ্ছে।
​বাজারের এই মন্দা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কিছু স্থানীয় ব্যাপারি মনে করছেন, এবার কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায় চামড়ার সরবরাহ কম। তাছাড়া, অনেকেই চামড়া লবণজাত করে এখনো ঘরের স্টক বা মাদ্রাসায় রেখে দিয়েছেন। কোরবানির ধকল কাটিয়ে অনেকে ঘুরতে ব্যস্ত থাকায় এখনো চামড়া বাজারে আনেননি। আগামী শনিবারের বড় হাটে প্রচুর চামড়া আমদানি হবে বলে তারা আশাবাদী। দেশীয় সম্পদ কোনোভাবেই যেন সীমান্তে পাচার না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেরাও সতর্ক থাকবেন বলে জানান।

​তবে চামড়ার এমন অস্বাভাবিক কম আমদানিতে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজারহাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, "গত বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার পর শনিবার প্রথম হাট ছিল। আমরা আশা করেছিলাম চামড়া লবণজাত করার পর আজকের (মঙ্গলবার) হাটে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার চামড়া উঠবে। কিন্তু সেখানে মাত্র ১ থেকে দেড় হাজার চামড়া এসেছে!

​ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে ইজারাদার আরও বলেন, "যশোর অঞ্চলে যে পরিমাণ কোরবানি হয়েছে, তার তিন ভাগের এক ভাগ চামড়াও এখনো বাজারে আসেনি। আমি সরকারকে অনুরোধ করব বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার জন্য। এই চামড়াগুলো কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে বা পার্শ্ববর্তী সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে গেছে কি না—তা তদন্ত করা দরকার। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে এই হাট ইজারা নিয়েছি, যে অবস্থা দেখছি তাতে ইজারার টাকাই উঠবে কি না তা নিয়ে চরম সংশয়ে আছি।

​চামড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী শনিবারের হাটের ওপরই নির্ভর করছে দক্ষিণবঙ্গের চামড়া বাজারের ভবিষ্যৎ। সেদিন বড় ব্যাপারিদের আগমন এবং চামড়ার সরবরাহ না বাড়লে এই খাতের সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন।