রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং নির্বাচনে কারচুপির পরিবেশ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাছাই করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণের জন্য সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরনের তথ্য নেওয়ার কথা না থাকলেও তারা ওপর মহলের সহায়তায় এসব তথ্য সংগ্রহ করছে। মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই করে প্রিজাইডিং অফিসার বাছাই করা হচ্ছে।"
চাকরি ও পদোন্নতির পর এখন ভোট গ্রহণেও রাজনৈতিক বিবেচনার প্রবেশ ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যখন একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রিজাইডিং অফিসাররা দায়িত্বে থাকবেন, তখন স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে এই নির্বাচন একটি কারচুপির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে শুরু থেকেই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার মানসিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।"
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, যারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের সরিয়ে পছন্দের কর্মকর্তাদের বসানো হচ্ছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, "সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন এবং কোনো বিশেষ দলকে অযৌক্তিক সহযোগিতা করছেন না, তাদের নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
নির্বাচন কমিশনকে ‘গভীর খাদ’-এর সাথে তুলনা করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেওয়া চিঠির কোনো উত্তর পাওয়া যায় না, অথচ নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই বিকেলের মধ্যে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের কিছু বিভাগ স্পষ্টভাবে একটি দলকে সহযোগিতা করছে।"
এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যারা এই অন্যায়ের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তা দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :