• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্পোর্টস ডেস্ক
অস্ট্রিয়ান রেফারি ওল্টারম্যানের ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠল বাংলাদেশের ডাগ আউট। ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করলেন একে অন্যকে জড়িয়ে ধরতে। সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী তখন জয় উদযাপনে বিভোর। ইউরোপের মাটিতে, ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ১-২ গোলের ব্যবধানে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকলেও ইউরোপের দেশ হওয়ায় জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সান মারিনোর। ফলে তাদেরই ঘরের মাঠে এমন জয় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে এবং ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে খেললেও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ।

আজকের এই ঐতিহাসিক জয়ের মহানায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি দর্শনীয় গোলই তিনি করেছেন হেডের সাহায্যে। দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পর তপুর হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। অধিনায়কত্বের যোগ্য মর্যাদা রেখে দেশকে এনে দিলেন স্মরণীয় এক জয়।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য কিছুটা নড়বড়ে ছিল। বল দখল ও আক্রমণে স্বাগতিক সান মারিনো চাপ সৃষ্টি করলেও ১০ মিনিট পর গুছিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিন ডান প্রান্ত দিয়ে ক্রস বাড়ালে, দারুণ হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ।

তবে বাংলাদেশের এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৪ মিনিট। ৩৩ মিনিটে গোলদাতা তপুর একটি ডিফেন্সিভ ভুলেই সমতায় ফেরে সান মারিনো। বেরাদির বাড়ানো কাটব্যাক থেকে বক্সের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে শট নেন নিকোলাস। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের গতি রোধ করতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পর শেখ মোরসালিনের পাস থেকে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের ওপর দিয়ে বল মারলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি খেলায় গতি আনতে সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান। জায়ান ও সামিত নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়ে। দুর্ভাগ্যবশত ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের একটি শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় দল।

ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে ফুলব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে রাইট উইংয়ে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক খেলেন ডুলি। যার ফল মেলে ৮৬ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে ভলি নেন বিশ্বনাথ। সে সময় মাটিতে পড়ে থাকা তপু বর্মণ উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তে তার মাথায় বল লেগে সান মারিনোর জালে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।চ':

চতুর্থ রেফারি অতিরিক্ত ৪ মিনিট ইনজুরি সময় দিলে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় সান মারিনো। একপর্যায়ে গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইন ক্রস করলেও, তা পুরোপুরি অতিক্রম না করায় নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট সফলভাবে পার করে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজরা।

ইতালির পেটের ভেতর ক্ষুদ্র দেশ সান মারিনো। রোম, ভেনিসসহ ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি এদিন হামজা-তপুদের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেছিলেন। পুরো গ্যালারি জুড়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের এই আকাশচুম্বী উপস্থিতির কারণে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও সান মারিনো স্টেডিয়ামটি যেন রূপ নিয়েছিল বাংলাদেশের 'হোম গ্রাউন্ডে'।