
স্বপ্নভূমি ডেস্ক : টানা বৃষ্টিতে যশোরের কেশবপুর উপজেলার হরিহর নদে পানি বিপদসীমার দুই ফুট ওপরে উঠে এসেছে। অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি উপচে পড়ায় পৌর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে নতুন করে মানুষের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে টংঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যাও বাড়ছে। নদ-নদী পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অপরিকল্পিত মাছের ঘের নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা যায়, মধ্যকুল সরদারপাড়ার বাড়িঘরে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা। একই অবস্থা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সাহাপাড়া খ্রিস্টান মিশনের পাশের সড়কেও। জলাবদ্ধ মানুষেরা রাস্তার পাশে টংঘর তৈরি করে আশ্রয় নিচ্ছেন।
মধ্যকুল এলাকার বাসিন্দা হামিদা খাতুন বলেন, “এক মাস ধরে এলাকায় পানি জমে আছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ায় ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে টংঘর বানিয়ে রাস্তায় উঠেছি।”
একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে ভ্যানচালক জিন্নাত আলী বলেন, “ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে রাস্তায় উঠে এসেছি। এখন টংঘর বানিয়ে দিন পার করছি।”
এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর আয়ুব খান বলেন, “মানুষ কোনো সাহায্য চায় না, তারা স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা চায়। প্রতিবছর এই ভোগান্তি কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষতি করছে।”
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, “পলি জমে নদ-নদী ভরাট হওয়া ও অপরিকল্পিত ঘের নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত যদি হরি নদীর অববাহিকায় টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) কার্যকর না হয় এবং খাল-নদী খনন করা না হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।”
কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের অধিকাংশই পানির নিচে। জলাবদ্ধ পরিবারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০। আলতাপোলের ১১টি পরিবার ইতোমধ্যে রাস্তাঘেঁষা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল এনামুল হক বলেন, “নয়টি ওয়ার্ডেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিন হাজার ২০০ পরিবার বর্তমানে এ দুর্ভোগে রয়েছেন।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন শিকদার জানান, হরিহর নদে বর্তমানে পানির উচ্চতা ১০ দশমিক ৭৬ ফুট, যেখানে স্বাভাবিক উচ্চতা ৮ দশমিক ৬৯ ফুট। দশটি সংযোগ খাল পুনঃখননের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং জানুয়ারি থেকে কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে হরিহর নদ ও আপারভদ্রা নদীর কিছু অংশে খনন কাজ চলছে। খনন সম্পন্ন হলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, স্থানীয়রা চায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন—যাতে করে প্রতি বছর এই একই দুর্ভোগের মুখোমুখি না হতে হয়।
আপনার মতামত লিখুন :