কেশবপুরে গর্ভবতী ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা, কসাই পলাতক
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে চার মাসের গর্ভবতী একটি ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন মতিয়ার রহমান নামের এক কসাই।
গতকাল মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কসাইয়ের দোকান বন্ধ করে দেন এবং তাঁর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের কসাই মতিয়ার রহমান মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের কসাইখানায় কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই একটি গর্ভবতী ছাগল জবাই করেন। ছাগলটির মাংস প্রস্তুত করার সময় এর পেট থেকে দুটি মরা বাচ্চা বের হয়ে এলে উপস্থিত জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনৈতিক এই কাণ্ড জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে কসাই মতিয়ার পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার।
কেশবপুর পৌরসভার স্যানিটারি পরিদর্শক সুজিত বিশ্বাস জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই জবাই করা ছাগল এবং পেট থেকে বের হওয়া মরা বাচ্চা দুটি ফেলে কসাই পালিয়ে যান। ছাগলটি জবাইয়ের কোনো বৈধ অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পরে ছাগলটির মাংস ও বাচ্চা দুটি হরিহর নদের তীরে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, “পশু প্রজনন আইন অনুযায়ী গর্ভবতী পশু জবাই করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ। ছাগলটি প্রায় ৪ মাসের গর্ভবতী ছিল। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এটি বাচ্চা প্রসব করত।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ জানান, “গর্ভবতী পশু জবাইয়ের অপরাধে কসাই মতিয়ারের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টির আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই পৌরসভার পক্ষ থেকে তাঁর লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে দেওয়া হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :