• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

পানিবন্দী যশোর: মাঠপর্যায়ে নামছে প্রশাসন, সাপের উপদ্রব ও অপরাধ রুখতে বিশেষ উদ্যোগ


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০০
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
​টানা রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টি ও চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে যশোরের আটটি উপজেলা। অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী ভবদহ অঞ্চলসহ জেলার নিচু এলাকাগুলো এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে। তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ধানের বীজতলা, সবজি খেত এবং মাইলের পর মাইল মাছের ঘের। লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম মানবিক সংকট।

​এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জুন মাসের অপরাধচিত্র, জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার মতো জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​জলাবদ্ধতা ও প্রশাসনের ত্রাণ তৎপরতা

​আবহাওয়া অফিসের তথ্যের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, গত দুই দিনে যশোরে সর্বোচ্চ ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। 

তিনি বলেন: "ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের সহায়তায় গত দুই দিনে ইতোমধ্যে ২৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলাতেও চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ পাঠানো হবে। এই সংকট পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত জেলার সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।"

​এছাড়াও, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খোঁজখবর নেওয়া ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের কঠোর নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।


​বন্যার পানিতে লোকালয় প্লাবিত হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সভায় সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, সরকারি বরাদ্দ সীমিত হলেও বর্তমানে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে অ্যান্টিভেনম মজুদ আছে। তবে দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত ৭টি করে অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

​সভার দ্বিতীয় অংশে জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার জুন মাসের অপরাধচিত্র তুলে ধরে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও খুনের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ঘটনা। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়—কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও চোরাচালানিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে।

​আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
গোপন হটলাইন চালু: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাং, মাদক ও চোরাচালান রোধে দ্রুত একটি বিশেষ 'হটলাইন' নম্বর চালু করা হবে। এখানে নাগরিকরা অপরাধের তথ্য দিতে পারবেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

​যৌথ অভিযান: সীমান্তে চোরাচালান ও পুশইন রোধে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​উচ্ছেদ অভিযান: শহরের যানজট নিরসন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।

​উৎসবকেন্দ্রিক নিরাপত্তা: আগামী ১৬ জুলাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব ও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

​যশোরকে সুন্দর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সুপার নাগরিকদের সচেতনতা ও আইন মানার মানসিকতা প্রত্যাশা করেন।

​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং আনসার ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কমান্ডার মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।