• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও ভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে এই ১০টি বিশেষ উদ্যোগের কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন।

মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি বিশেষ উদ্যোগ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সার্বক্ষণিক মনিটরিং: প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. আশ্রয়কেন্দ্র চালু: চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩. নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ: জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার জন্য নগদ ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪. জরুরি রসদ সরবরাহ: সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকাগুলোতে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. সেনাবাহিনী মোতায়েন: জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. পরীক্ষা স্থগিত: ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
৭. সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি: চট্টগ্রাম বিভাগের প্লাবিত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন।
৮. ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা: দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সরকারি সহায়তা জ্ঞাপন করছেন।
৯. ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়: স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকৃত ভুক্তভোগী সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
১০. রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধি: ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথকে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে ও টেকসই যোগাযোগের স্বার্থে ৫ ফুট উঁচু করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ যাতে একাকী বোধ না করেন, সেজন্য সরকারের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।