• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

গণঅভ্যুত্থানের সুফল ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: অধ্যাপক নার্গিস বেগম


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। আবু সাইদ ও ওয়াসিমের মতো সাহসী যুবকেরা প্রতিরোধের দেয়াল তুলে স্বৈরাচারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তারা আমাদের লড়াইয়ের প্রেরণা। তাদের এই মহান ত্যাগকে ধারণ করে জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে হবে।

​জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। মনিহার বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

​অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, "একটি স্থিতিশীল সরকার ছাড়া জনগণের কোনো দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। আর সেই লক্ষ্যেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেওয়া জনগণের ওয়াদা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ঠিক এই মুহূর্তেই সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী চক্রান্ত চলছে, যেন সরকার জনকল্যাণে কাজ করতে না পারে। দেশবিরোধী শক্তিগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। চক্রান্তকারীদের এই অপচেষ্টা রুখতে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।"

​তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সেই ঐক্যের মাধ্যমেই ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত হয়েছিল। চক্রান্তকারীরা এখন সেই ইস্পাতকঠিন ঐক্যে চিড় ধরাতে চায়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দেশে কোনো উগ্রবাদ বা চরমপন্থীর জায়গা হবে না। গত ১৭ বছরের যে কালো অধ্যায় বিএনপি ও বর্তমান বিরোধী দলগুলো পার করেছে, তা যেন আর ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।" বর্তমানে জাতীয় সংসদে একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি একে স্বাগত জানান।

​পার্শ্ববর্তী দেশের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, "বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রতিবারই বন্ধুর ছদ্মবেশে পার্শ্ববর্তী দেশ আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষ তা বারবার রুখে দিয়েছে। বর্তমানে আমাদের চারপাশে শেখ হাসিনার দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং আমাদের নীরবতা ও উদারতার সুযোগ নিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এরা আমাদের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস করেছিল। ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসররা আমাদের ভাই বা বন্ধু হতে পারে না; তাদের একমাত্র পরিচয় তারা নির্যাতনকারী। এদের কোথাও কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।"

​জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরানের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, শহিদুল বারী রবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব পিকুল হোসেন, এম এম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান এবং নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মাহমুদ শিশির প্রমুখ। স্মরণ সভায় জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।