• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘হাদির খুনিদের আড়াল করতে চেয়েছিলেন অমিত শাহ’, মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:২০
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মাথায় ভারতের রাজনীতিতে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটালেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আলোচিত তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন এক দাবি করেছেন তিনি, যা দুই দেশের ভূ-রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কলকাতার ধর্মতলায় এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে মমতা সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন—হাদির খুনিদের আড়াল করতে খোদ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

মঙ্গলবার কলকাতার এক রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলাদেশে হাদি হত্যাকাণ্ডের পর মূল ঘাতকেরা মেঘালয় সীমান্ত পার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। এরপর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অত্যন্ত সফলতার সাথে তাদের গ্রেপ্তার করে।

কিন্তু এই গ্রেপ্তারের খবর যাতে কোনোভাবেই গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। মমতার ভাষায়:

"স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আপনি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে একটু বলে দিন, এই কথাটা যেন বাইরে না যায়। এটি দেশের স্বার্থে।’"

মমতা আরও যোগ করেন, "আজকে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলেই এত বড় সত্যটা সামনে আনলাম। কাকে দিয়ে এই খুন করানো হয়েছিল, কার কার নাম এসেছে—আমি সব জানি। আমার হৃদয় তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার।" তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে—এমন ‘কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়’ দিক বিবেচনা করে তিনি মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম এখনই প্রকাশ করছেন না বলে জানান।

৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ ও প্রখর ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই প্রাক্তনী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন কট্টর ফ্যাসিবাদ-বিরোধী। শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি এবং ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে তরুণ সমাজের আইকন বানিয়ে তোলে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথাও ছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে এক সুপরিকল্পিত ও নৃশংস গুপ্তহত্যার শিকার হন তিনি। মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা চলন্ত রিকশায় তার মাথায় খুব কাছ থেকে গুলি করে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান, যা বাংলাদেশে তীব্র জনরোষের জন্ম দেয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানতে পারে, মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন অপরাধ সংঘটনের পরপরই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল, আলমগীর এবং তাদের সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। এতদিন এটিকে সাধারণ একটি সফল পুলিশি অভিযান মনে করা হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলবারের এই স্বীকারোক্তি পুরো ঘটনাকে একটি আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে দাঁড় করিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কেন এই খুনিদের গ্রেপ্তারের খবর গোপন রাখতে চেয়েছিল—তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে বড় প্রশ্ন।