যশোরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ,পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি
Simanto
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 10, 2025 ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর পৌর যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি তারেক হোসেন চুন্না ও নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলেন করেছেন এক নারী। হামলাকারীরা ওই সময় ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গতকাল রোববার প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শহরের বারান্দীপাড়া ঢাকা রোড এলাকার বাসিন্দা জেসমিন বেগম।
এদিকে যশোর নগর যুবদল বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলেন করে ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ওই নারীকে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করেছিল। এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এ অভিযোগ করছে।
লিখিত বক্তব্যে জেসমিন বেগম জানিয়েছেন, আমার জীবিকার একমাত্র ভরসা চারটি ইজিবাইক। যা ভাড়া দিয়ে সংসাকার চালাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমার ব্যবসার দিকে নজর পড়ে একই এলাকার বাসিন্দা যুবদল নেতা তারেক হাসান চুন্নুর। কিছুদিন আগে সে আমার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় চুন্না ও তার সহযোগীরা আমাকে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ৪ আগস্ট বিকেলে চুন্না, বিশাল, আকাশ, লাল্টু, সোহেল ওরফে চাকু সোহেল, শফিক, হাসান, সনু, মন্ডল, হাবিব, তুষার, আল আমিনসহ আরও ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আামর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমার ঘরে ঢুকে ২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে মারপিট করে। সানু ও লাল্টু আমার শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় চুন্না ঘর তল্লাশি করে ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাদের বাধা দেয়ায় আমার ছেলে রাকিব হাসানকে মারপিট ও মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুর গলায় চাকু ধরে চাঁদার বাকি টাকা দাবি করে। আমার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে চুন্নাসহ কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরে কিছু দুর্বৃত্ত এসে খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর চুন্নার নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন আবার আমার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। সাথে বস্তি এলাকা থেকে আরও ৩০ জন নারী এনে আমার বাড়ি ঘিরে ফেলে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। আমি ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে প্রথমে তারা অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে অভিযোগ নিলেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফোনটি ফেরত পেয়েছি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তানজিলা বেগম, সাদিয়া খাতুন, রাকিব হাসান, রুমা খাতুন, স্বাধীন প্রমুখ।
এ দিকে নগর যুবদলের সদস্য সচিব শেখ রবিউল ইসলাম রবি পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৪ আগস্ট বারান্দীপাড়া ঢাকারোড এলাকার জেসমিন বেগমের সঙ্গে তার এক ইজিবাইক চালকের দ্বন্দ্ব হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য জেসমিন নিজেই যুবদল সভাপতি তারেক হাসান চুন্নাকে ডেকে নেন। আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত হলেও জেসমিন তা মানেননি। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা চুন্না ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা চালান। এতে চুন্না জখম হন। এরপর ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, যশোরের মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মুরাদ। আর জেসমিন তার আশ্রয়দাতা। তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত, ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভপতি তারেক হাসান চুন্নুর, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল বারী কাক্কু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সরদার উজ্জ্বল, নগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :