‘স্বপ্নারে কতবার কইছি বোন দরজা খোল, সে খোলে নাই’ - রামিসার মা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৬
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। এদিন মামলার বাদীসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন অফিস থেকে ফিরে তিনি দেখতে পান প্রতিবেশীরা আসামি সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান তারা। তিনি বলেন, “ঘরের ভেতরে খাটের নিচে আমার মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।” শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন।
রামিসার মা পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন সকালে বড় মেয়ে রাইসাকে দিয়ে রামিসাকে চাচার বাসায় পাঠিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে তিনি খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় সোহেল রানার দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে স্বপ্না খাতুনকে দরজা খুলতে বললেও স্বপ্না দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ ও প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে।
আদালতে সাক্ষ্য দেন প্রতিবেশী আবু সামা। তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে তিনি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তিকে খালি গায়ে নিচে নামতে দেখেন। চোর ভেবে চিৎকার করলেও পরে মিডিয়ার ছবি দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটিই আসামি সোহেল রানা।
অন্যান্য সাক্ষী ও আত্মীয়রা জানান, ঘরের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে রামিসার মাথা এবং খাটের নিচে দেহ পড়ে ছিল। প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন জানান, খাটের নিচে রামিসার বিবস্ত্র লাশ পাওয়া যায়।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের বর্ণনা অত্যন্ত লোমহর্ষক। আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়েছে।”
মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :