জুলাই বিপ্লব নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন জীবনব্যবস্থার ঐতিহাসিক বাস্তবতা: বেনজীন খান
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৯
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ৩৬ জুলাই এক ঐতিহাসিক পরম্পরা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লখক-গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খান বলেছেন, বাংলাদেশ এমনটি দেশ যার সবকিছু শুরু হয়েছে মিথ্যা দিয়ে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ভাসানি না শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধু কে? মুন্শি মেহেরুল্লাহ না কি শেখ মুজিব এবং স্বাধীনতার ঘোষক কে মুজিব না জিয়াÑ এসব ছাড়াও আরো অনেক বিতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের তরুণেরা সুস্পষ্টভাবে নতুন কনস্টিটিউশন ও সেকেন্ড রিপাবলিকের কথা বলেছিল। সেটির বাস্তবায়ন করা গেলেÑ নতুন কনস্টিউশন রচনার মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণ খেলাপী ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া সম্ভব হতো। রাজনীতিতে ও রাষ্ট্র ক্ষমতায় পিতৃতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের প্রভাব রুখে দেওয়া যেতো। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর আমরা সেখান থেকে সরে গেলাম। তবে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই; জুলাই থেমে নেই; জুলাই বিপ্লব চলমান রয়েছে। একটু বাতাস পেলেই এই অগ্নিশিখা আবারো দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে।
বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এনসিপির জেলা শাখার উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনজীন খান এসব কথা বলেন। দলটির জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সালমান হাসান রাজিবের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনজীন খান আরও বলেন, আমার জুলাই চাইনি। কারণ, আমরা একাত্তরে অনেক রক্ত দিয়েছি। কিন্তু একাত্তরে আমাদের আকাঙ্খা ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। যার কারণে আমাদেরকে একটি জুলাই বিপ্লব সংগঠিত করতে হয়েছে।
বেনজীন খান বলেন, ৩৬ জুলাইকে আমার বিপ্লব না বলে গণঅভ্যুত্থান বললাম। অভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থান, সামরিক ক্যু ও বিপ্লবের মধ্যে পার্থক্য আছে। বিপ্লব নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন জীবনব্যবস্থার ঐতিহাসিক বাস্তবতা সৃষ্টি করে। সুতরাং ৩৬ জুলাই কোনো ভূইফোঁড় ব্যাপার না। এটি ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪’র পরম্পরা।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান আজাদ, সালমা আক্তার আশা, জাতীয় যুবশক্তির জেলা আহ্বায়ক ইমদাদুল হক ও সদস্য সদস্য সচিব ফারিন আহমেদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত ও সদস্য সচিব আল হাফিজ, জাতীয় শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন, এনসিপির মণিরামপুর উপজেলা সংগঠক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :