জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জরুরি আদেশ ও গণভোটের দাবিতে অনড় জামায়াত, যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে সক্রিয়
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি একদিকে বিএনপিকে দায়িত্ব নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে সরকারকে 'রেফারির' ভূমিকা নিতে বলেছে। এর মধ্যেই তিন মূল দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত।
সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত সরকারকে ঐকবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বানের পর জামায়াত এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, "আলাপ-আলোচনা হবে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে যেমন সেটির দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তেমনি রেফারির ভূমিকায় সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।"
অন্যদিকে, জনসভার কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের গত ৬ নভেম্বর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আজ স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেওয়ার পরও যদি দাবি মানা না হয়, অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে ১১ নভেম্বর চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি। আগামী ১১ তারিখ ঢাকা মহানগরী হবে জনতার নগরী। লড়াই হবে।"
আলাপ-আলোচনাকে এগিয়ে নিতে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ। এই কমিটি নির্বাচনী কাঠামো, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের বিষয়ে একটি ‘সমঝোতামূলক রূপরেখা’ তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
মাওলানা আব্দুল হালিম স্পষ্ট করেন, এই কমিটি গঠন প্রমাণ করে জামায়াত রাজনৈতিক সমঝোতায় বিশ্বাসী, "তাই বলে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করছি না। আলাপ চলবে, কর্মসূচিও চলবে।"
জামায়াত সরকারকে মূলত তিনটি মূল দাবিতে চাপে রাখতে চায়: ১. আইনি ভিত্তির মাধ্যমে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন। ২. ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে অবিলম্বে জরুরি আদেশ জারি। ৩. জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের স্পষ্ট দলীয় অবস্থান জানান দেওয়া।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারের 'সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন' এই তিনটি অঙ্গীকারের মধ্যে সংস্কারই একমাত্র প্রোডাকটিভ অ্যাচিভমেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, "আমরা ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারের বেশকিছু বিষয়ে সরকারের গড়িমসি ও বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের মারপ্যাঁচ দেখছি।"
তিনি নিশ্চিত করেন, ১১ নভেম্বরের জনসভা থেকে নতুন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো "সরকার যেন বিএনপির কোলে উঠে না পড়ে" সেজন্যই চাপ সৃষ্টি করা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বার্তা দিতে চান যে, "গণভোটের আয়োজন এবং সেটার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজনই সমাধান।"
খেলাফত মজলিশ মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরও বলেন, "আলোচনার দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে কোনো না কোনো দলকে তো নেওয়া উচিত... জনসভা থেকে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান থাকবে– কমিশনে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হোক।"
উল্লেখ্য, পাঁচ দফা গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত আটটি রাজনৈতিক দলের পূর্বঘোষিত জনসভা বাস্তবায়নে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল (৯ নভেম্বর) সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :