সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হওয়া স্বাভাবিক, তবে জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সবাইকে ভদ্রতা ও সভ্যতার সীমা বজায় রাখতে হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। কে জিতলে কী হবে—জেতার আগেই এমন মন্তব্য করলে তা বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।”
ভোটের পরিবেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয়ের কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “কাউকে বলতে শুনিনি যে ভোট দিতে ভয় লাগছে। যদি কেউ এমনটি বলে থাকে, তবে আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন। তার ভয় দূর করার দায়িত্ব সরকারের। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে একটি ভয়ের আবহ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি ‘পতিত স্বৈরাচার’ কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তার প্রস্তুতি আরও বাড়ানো হবে।
১২ তারিখের সাধারণ ভোটের পাশাপাশি হতে যাওয়া ‘গণভোট’ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় গিয়ে জনগণকে এর গুরুত্ব বুঝিয়ে এসেছেন। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভূমিকা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “ডিসিদের কাজ হলো জনগণকে জানানো যে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোট হবে এবং সেখানে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা। এর বেশি তাদের আর কিছু করার নেই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ঢিল ছোড়াছুড়ি নিয়ে তিনি বলেন, এক দল অন্য দলকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে—এটিই নির্বাচনের আমেজ। তবে পরিস্থিতি যদি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার পর্যায়ে পৌঁছায়, তবেই কেবল সরকার হস্তক্ষেপ করবে। তার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্য বা জনসভার বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
আপনার মতামত লিখুন :