বিশ্ব মিডিয়ার নজরে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে আসা একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাকে বহনকারী বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথেই বিমানবন্দর এলাকা নেতাকর্মীদের স্লোগান ও হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কাতারভিত্তিক আলজাজিরা এবং মালয়েশিয়ার দ্য স্ট্রেইট টাইমস তার এই প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছে।
মজার ব্যাপার হলো, ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এই খবর নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইন্ডিয়া টুডে এবং দ্য উইক তাদের বিশেষ নিবন্ধে দাবি করেছে, তারেক রহমানের এই ফেরা ভারতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে বিশ্লেষকরা তাদের মতামত তুলে ধরছেন।
৩০০ ফিটে জনসমুদ্র ও রাজকীয় আয়োজন তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় এক সুবিশাল ও বর্ণিল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রাক ও নৌকায় করে লাখ লাখ নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর দলীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড় কুড়িল বিশ্বরোড ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
৬ হাজার ৩১৪ দিনের অপেক্ষা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমানোর পর নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়েছে তারেক রহমানকে। দীর্ঘ ১৭ বছর বা ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর তার এই ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিটের জনসভায় যোগ দেবেন এবং সেখানে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভাষণ দেবেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সাধারণ সংবর্ধনা নয়, বরং আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক ঐতিহাসিক সূচনা।
আপনার মতামত লিখুন :