অভয়নগরে রাতের অন্ধকারে পানিবন্দী মানুষের ঘরে খাবার নিয়ে হাজির ইউএনও
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া গ্রামের অন্তত ৩০০টি পরিবার গত দুই মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতায় তিন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
দুর্গত এই পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাঁটু সমান নোংরা পানিতে নেমে চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া গ্রামের দুইশত পানিবন্দী পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন—প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন খোকন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এস জেড মাসুদ তাজ।
এলাকায় আকস্মিক এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন খোকন বলেন, "যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণের জন্য স্থানীয় একটি বিল বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের সব স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও স্থানীয় তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত বর্জ্য পানি যুক্ত হয়ে চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া গ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই মাস ধরে এখানে মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে আছেন। শুক্রবার রাতে ইউএনও সাহেব নিজে হাঁটু পানিতে নেমে সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন।"
খাদ্য সহায়তা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বৃদ্ধ রজব আলী, রমজান মোল্যা ও করিম শেখ বলেন, "গত দুই মাস ধরে আমাদের রাস্তাঘাট, ঘর ও বারান্দায় হাঁটু সমান পানি জমে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে কাজে যেতে পারছি না, ঘরে কোনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ছিল না। এই দুই মাসের মধ্যে প্রথম কোনো সরকারি সাহায্য আমরা পাইলাম। রাতে ইউএনও সাহেব নিজে বাড়ি এসে এক বস্তা খাবার দিয়ে গেছেন।"
খাদ্য বিতরণের বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, "রাতের অন্ধকারে পানিবন্দী এলাকার দুইশত দুর্গত পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। উপজেলা প্রশাসন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিটি খাদ্য সহায়তার বস্তায় ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি তেল, এক প্যাকেট বিস্কুট ও এক প্যাকেট মশার কয়েল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।"
আপনার মতামত লিখুন :