বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য রুদ্ধ হলো হরমুজ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির স্বস্তি কাটতে না কাটতেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতি। বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে পুনরায় অবরোধ জারি করেছে ইরান। আজ শনিবার দুপুরে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পটভূমি ও ইরানের সিদ্ধান্ত গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইরান ঘোষণা করেছিল, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে সব দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো তেহরান।
যৌথ সামরিক কমান্ডের আজকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে আগের মতোই সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।"
ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ও ঘালিবাফের পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। ট্রাম্প তার প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সাফ জানিয়ে দেন, ইরান নৌ-পথ খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখে, তবে হরমুজ বেশি দিন উন্মুক্ত থাকবে না।" এই বাদানুবাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।
বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। একদিকে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চলায় বিশ্ববাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আশা করেছিল, অন্যদিকে হরমুজে পুনরায় অবরোধের ঘটনায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ‘অবরোধের পাল্টা অবরোধ’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপাতত হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানি নৌ-বাহিনীর হাতে থাকায় ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিকল্প পথের সন্ধানে রয়েছে।
সূত্র: এপি
আপনার মতামত লিখুন :