• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা: খুলছে হরমুজ প্রণালি, থামছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬, ০৭:০৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনা কাটিয়ে এক ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে তেহরান। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে ওয়াশিংটন। আজ রোববার (২৪ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'এক্সিওস'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরান কোনো বাধা ছাড়াই বিশ্ববাজারে তাদের তেল বিক্রি করতে পারবে। এর পর পরই নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে তেহরান।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজকে অবাধে চলাচল করতে দেবে এবং এ জন্য কোনো প্রকার টোল বা শুল্ক আদায় করবে না। এ ছাড়া কৌশলগত এই জলপথের যেসব স্থানে মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোও অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঙ্গীকার করবে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ওপর। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান যুদ্ধও অবসান ঘটবে। তবে একটি বিশেষ শর্ত রাখা হচ্ছে— হিজবুল্লাহ যদি চুক্তির পর নতুন করে কোনো হামলা বা উস্কানি দেয়, তবে ইসরায়েলকে পাল্টা সামরিক জবাব দেওয়ার পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এক্সিওসকে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ইতোমধ্যে একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, তেহরান তাদের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং বর্তমানে তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দেবে। মার্কিন প্রশাসনের আশা, আজ রোববারের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব শর্ত ও দাবি জানিয়ে আসছেন, তেহরান যদি সেগুলো পুরোপুরি মেনে চলে তবে দুই দেশের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়ে ইরান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।