মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল খাদেমি নিহত
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সাঈদ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক যৌথ হামলায় তিনি প্রাণ হারান। আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের সন্ত্রাসী হামলায় মেজর জেনারেল সাঈদ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।” তবে এই হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান বা ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইআরজিসি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চলছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন অভিযানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলও। অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
হামলার মুখে দমে না থেকে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ— সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান। বর্তমানেও এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জেনারেল সাঈদ মাজিদ খাদেমির মৃত্যু ইরানের সামরিক গোয়েন্দা সক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :