দুর্নীতি ও জালিয়াতির দায়ে কালীগঞ্জের নিকাহ রেজিস্ট্রারসহ তিনজনের সাজা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৩:২৮
স্টাফ রিপোর্টার :
দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাবিননামা তৈরির দায়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারসহ (কাজী) তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) যশোরের বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. নূরুল ইসলাম এক রায়ে এই আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিয়ামতপুর গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে জুলফিকার আলম, চাঁচড়া গ্রামের মৃত আইনুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে শফি উদ্দিন এবং বলরামপুর গ্রামের মৃত মোবারক ধনীর ছেলে আব্দুল ওহাব। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, কালীগঞ্জের পারশ্রীরামপুর গ্রামের আয়না বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে চাঁচড়া গ্রামের মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সহায়তায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তারা একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে আয়না বেগমকে নিজের স্ত্রী দাবি করেন এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালান।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আয়না বেগম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ৪ মার্চ জালিয়াতির অভিযোগে মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটনার তদন্তে নেমে জালিয়াতির সত্যতা পায়। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী সাজাপ্রাপ্ত তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
পরবর্তী সময়ে মামলাটি অধিকতর বিচারের জন্য যশোরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন মূল অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও অপর আসামি মানিক বিশ্বাসের মৃত্যু হলে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামি জুলফিকার আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামিদের দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪৬৮ ধারায় ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারায় তাদের আরও ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সবকটি ধারার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
আপনার মতামত লিখুন :