• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে আওয়ামী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, দুদকের নজরে শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা


FavIcon
Simanto
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক : যশোরে গত ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে। ভুয়া প্রকল্প, অস্বচ্ছ নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক এসব সাবেক জনপ্রতিনিধির ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের খতিয়ান খতিয়ে দেখা শুরু করে। ইতিমধ্যে চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

স্বপন ভট্টাচার্য্য ও স্ত্রী তন্দ্রার বিরুদ্ধে দুটি মামলা

সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তার স্ত্রী তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের নামে দুটি মামলা করেছে দুদক যশোর। একটি মামলায় উভয়ের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। অপর মামলায় স্বপনের নামে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ৪১ কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য তদন্তাধীন।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ যশোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং পরে তাদের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন।


শাহীন চাকলাদার ও পরিবারের বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ

যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে ৪২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং ৩৪১ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও পুত্রও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। পরবর্তীতে আদালত তাদের পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।


রণজিৎ রায় পরিবারে চারটি মামলা

সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ২১৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। এসব মামলা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দায়ের হয়।


জহিরুল ইসলাম রেন্টুর সম্পদ তদন্তে দুদক

সাবেক পৌর মেয়র ও যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রেন্টু, তার স্ত্রী ও ছেলে—তিনজনের বিরুদ্ধে সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুদক যশোর। সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তাদের বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।


সাইফুজ্জামান পিকুলের বিরুদ্ধে প্রকল্প ও গাছ বিক্রির দুর্নীতি

সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্প পরিচালনা, গাছ বিক্রি ও জমি ইজারার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। ২০২৫ সালের ১৬ জুন, আদালত তার, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।


হায়দার গনি খান পলাশ নজরদারিতে

সাবেক যশোর পৌর মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হায়দার গনি খান পলাশের বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালীন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তার এবং তার পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যাচাই চলছে।


আত্মগোপনে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী

সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।


দুদক জানিয়েছে, যশোরে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে যেসব জনপ্রতিনিধি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি অনুযায়ী আরও মামলা এবং সম্পদ জব্দের আদেশ আসবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।