• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা: আসিফ নজরুল


FavIcon
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:০৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
গণভোট বাস্তবায়নের উপায় এবং গণভোট কবে হবে, তা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রধান উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত নেবেন অন্তর্বর্তী সরকার সেই সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এসব ব্যাপারে একটা সময় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
গণভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। ২৭০ দিন যাবত আলাপ আলোচনার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখছি, এটা হতাশাব্যাঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে কীভাবে সমঝোতার দলিল পাস হয়; এটা খুব দুরূহ একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, ওনাদের (রাজনৈতিক দল) আসলে ঐকমত্য হয় নাই। কিছু ভাইটাল (গুরুত্বপূর্ণ) প্রশ্নে এর আগে আমরা জেনেছিলাম কন্টেন্ট নিয়ে বিরোধ ছিল, যে সংস্কার হবে সেই বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধ ছিল। এখন আবার দেখলাম আরও দুই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে; একটা হচ্ছে আপনার এটা (জুলাই সনদ) কী পদ্ধতিতে পাস করা হবে, আরেকটা হচ্ছে এই জন্য গণভোট হলে গণভোট কবে হবে।
তিনি বলেন, (রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ) এত দৃঢ় এবং পরস্পরবিরোধী। কী বলব? যে উত্তেজিত ভূমিকা নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল, আপনারা যদি এরকম একটা ভূমিকা নেন তাহলে সরকার কী করবে? আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না।
আইন উপদেষ্টা বলেন, এতদিন আলোচনার পর যদি আপনাদের ঐকমত্য না আসে, এখন আমরা আসলে কীভাবে কী করব, এটা নিয়ে সত্যি আমাদের একটু চিন্তা করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনৈক্যের বিষয়গুলোর একটা হচ্ছে—আপনারা জানেন ঐকমত্য কমিশন দুইটা বিকল্প দিয়েছে; একটা হচ্ছে আপনার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারপর গণভোট; তারপরে ২৭০ দিনের মধ্যে না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে। এরকম কোনো নজির আছে কি না বা এটা আদৌ সম্ভব কি না এটা আমরা দেখব। আরেকটা হচ্ছে এই দায় দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। এই দুইটা বিকল্পের মধ্যে কোনটা আসলে বেশি গ্রহণযোগ্য, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। আর গণভোট কবে হবে, ওটা নিয়ে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বোধ হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এসব ব্যাপারে একটা সময় আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা ওনাকে সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত, এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবেন না। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন হলে উনি পরামর্শ করবেন এবং আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেখানে আমরা দৃঢ় থাকব। সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আল্টিমেটাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেওয়ার জন্য আমাদের আল্টিমেটাম বেঁধে দেয় বা জোর করে—তার মানে হচ্ছে ওনাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই এবং ওনারা চাচ্ছেন ওনাদের দলীয় পজিশনটা যেন এই সরকার আপহোল্ড (সমুন্নত) করে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ওনাদের তো যথেষ্ট আলোচনার সময় দেওয়া হয়েছে। ওনারা যে অনৈক্য দেখাচ্ছেন জুলাই স্পিরিটকে ওনারা কোথায় নিয়ে গেছেন, এটা ওনাদের বিবেচনা করা উচিত।
অপর এক প্রশ্নের জবানে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা তো কমিশনের সুপারিশ নিয়েছি, সুপারিশটা আমরা কীভাবে বাস্তবায়ন করব সেখানে সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে। এটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।