• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

রক্তে কেনা বর্ণমালা: বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩:৪৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
আজ রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১শে ফেব্রুয়ারি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটার এই বসন্ত দিনে বাঙালি জাতি পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে সেই বীর সন্তানদের, যাঁরা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাঙালির হৃদয়ে আজ শোক ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে বেজে উঠছে সেই কালজয়ী সুর— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ (শনিবার) সাধারণ ছুটি। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি পালন করছে।

আজ ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরের রক্তে ভিজে যায় ঢাকার রাজপথ।

এই আন্দোলনের তীব্রতায় পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাসের মাধ্যমে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।

মাতৃভাষার জন্য বাঙালির এই আত্মত্যাগ আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতিবছর দিবসটি পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটি একই সঙ্গে শোকের এবং অপরিসীম গৌরবের। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানের এমন নজির আর দ্বিতীয়টি নেই। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং শুদ্ধ ভাষা চর্চার নতুন শপথ গ্রহণ করছে।