নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলে বিবেধ ছড়াচ্ছেন সাবিরা, অভিযোগ তৃণমূলের
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ তৈরির অভিযোগ উঠেছে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে। তিনি অব্যাহতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাদগার করে চলেছেন। এমনকি গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। আজ রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানিয়েছেন ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ বলেন, গত ১১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে "হেরেছি পদধারী নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায়" শীর্ষক সাবেরা সুলতানার সাক্ষাৎকারটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই তিনি দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ প্রার্থীর অদক্ষতা, অহংকার এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্নতা। সাবিরা সুলতানার আপন চাচা শ্বশুর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা এবং অপর এক আত্মীয় জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও হাই কমান্ড তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় দলীয় ব্যানার ব্যবহার না করে তার স্বামীর নামে করা 'নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশন' এর ব্যানারে প্রচার চালিয়ে তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলেন। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে পকেট কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, এই আসনে প্রবাসী ই-পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রায় ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে সাবিরা সুলতানার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১ হাজার ৬শ’র কিছু বেশি। এটি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, সাবেরা সুলতানা উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেননি। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো এখন তাদের 'বিশ্বাসঘাতক' বলে অপবাদ দেয়া হচ্ছে। যে কারণে তিনি নিজ কেন্দ্র কীর্তিপুরসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাবেরা সুলতানার এই ধরনের মিথ্যাচার দলের ঐক্য বিনষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তারা দলের হাই কমান্ডের কাছে তার বিভ্রান্তিকর এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্ত্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হকসহ দুই উপজেলা বিএনপি, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :