১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা করেছি জামাই পরশ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের বহুলালোচিত বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মিশনের সদস্য আটক শাহিন কাজী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। এ হত্যা মিশনে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭ জন ছিল। জামাই পরশের পরিকল্পনায় ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
সোমবার বিকেলে শহরের লোন অফিসপাড়া আটক শাহিন কাজীকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে জবানবন্দিতে সে তথ্য জানিয়েছে। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আটক শাহিন কাজী যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা মোড় এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে ও লোন অফিসপাড়ার সদর ফাঁড়ির উল্টো পাসের বাড়ির ভাড়া বাসিন্দা।
এ আগে আলমগীর হোসেন হত্যান্ডের পরিকল্পনাকীর জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ হত্যা মিশনের শুটার মিশুককে আটক করে।
আটক শাহিন কাজীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই। শ্বশুর আলমগীরের অবর্তমানে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের আয়ত্বে নেয়ার পরিকল্পনায় এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামাই পরশ। ঘটনার দিন সন্ধায় জামাই পরশের সাথে সকলে একসাথে বসে নেসা করেছি। এ হত্যাকান্ডে জামাই পরশ তাদের সাথে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেছি। পরবর্তীতে পরশের দেয়া অস্ত্র ও ১ লাখ টাকা নিয়ে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭ জন বেরিয়ে ছিল। আলমগীর হোসেন সন্ধায় অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ান দিলে তাকে অনুসরণ করে তিন মোটরসাইকেল থাকা হত্যা মিশনের সদস্যরা। এরপর শংকরপুর বটতলা মোড় থেকে বাড়ির দিকের রাস্তায় রওয়না দিয়ে সামনের ফাঁকা জায়গায় আলমগীরের পিছনে আসা মোটরসাকেল থেকে মিশুক গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর পরের মোটরসইকেলে থাকা অপর দুইজন মিশুকের মোটরসাইকেল অনুসরন করে চলে যায়। আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ায় গুলি লেগে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারা তিনজন মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে আবার পিছনের দিকে চলে যায়। ঘটনার রাতে চুক্তি অনুযায়ী আরও ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। পুলিশী তৎপরতার কারনে তারা এ টাকা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে আটক শাহিন কাজী।
উল্লেখ, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রসাীরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পরপর জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করেছিল। পরবর্তীতে শুটার মিশুককে আটক করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানিয়েছেন, জড়িত অন্যদের ধরতে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আপনার মতামত লিখুন :