• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

২৬ লাখ টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ: ইউএনও’র বিরুদ্ধে ৯ প্রকল্পের অর্থ লোপাট!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

মনিরামপুর প্রতিনিধি : যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের ২৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে নেওয়া ৯টি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও বাস্তবে বেশিরভাগ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি প্রকল্পে কোনো কাজই হয়নি এবং ৩টিতে মিলেছে আংশিক কাজের তথ্য।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না থাকায় ইউএনও নিজেই প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে এসব প্রকল্প গ্রহণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নামে মাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে বাকি টাকা লোপাট করার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছিলেন।

অস্তিত্বহীন ৬ প্রকল্প
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ জুন প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস পরেও ৬টি প্রকল্পের কোনো কাজই বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষের শোভাবর্ধনে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
  • ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাকসবজি ও ফলবাগান তৈরিতে দুই লাখ টাকা।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেশীয় খেলার চর্চায় দুই লাখ টাকা।
  • ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতায় নারীদের আয় বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রদানে এক লাখ টাকা।
  • কৃষকদের মাঝে স্প্রে যন্ত্র ক্রয়ে আট লাখ টাকা (ক্রয় হলেও বিতরণ হয়নি)।
  • বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিফিন বক্স সরবরাহে দুই লাখ টাকা (ক্রয় হলেও বিতরণ হয়নি)।

'ভুয়া' কমিটি ও কর্মকর্তাদের অস্বীকার
ইউএনও’র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবজি বাগান, বই পড়া প্রতিযোগিতা, স্কাউট দল গঠন ও প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কমিটির সদস্য ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রশীদ। কিন্তু তিনি জানান, এসব প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। একই কথা জানিয়েছেন দেশীয় খেলা চর্চা প্রকল্পের সদস্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম। এমনকি, নারীদের প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সদস্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তারও এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না।"

অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও নিশাত তামান্না এই টাকা আত্মসাৎ করতে নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করে, দপ্তরের নাজির শাহিন হোসেনের মাধ্যমে নামমাত্র টাকা খরচ করে বাকি অর্থ হজম করেছেন।

আংশিক কাজের তথ্য:
ইউএনওর দপ্তরের নাজির শাহিন হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, আংশিক কাজ হয়েছে এমন প্রকল্পগুলো হলো:

প্রকল্পের নামমোট বরাদ্দনাজিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খরচ/কাজ
বই পড়া প্রতিযোগিতায় বই বিতরণ২ লাখ টাকাইউএনও নিজে দুইশ বই কিনেছেন, যা ৪টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ হয়েছে। তবে ২টি প্রতিষ্ঠান বই পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
স্কাউট দল গঠন ও প্রশিক্ষণ২ লাখ টাকা৫টি প্রতিষ্ঠানের স্কাউটের ছাত্রদের ব্যাজ ও টাই তৈরিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ২ লাখ টাকা৪টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক উপকরণ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও’র দায় এড়ানোর চেষ্টা
অস্তিত্বহীন প্রকল্প ও অর্থ নয়ছয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নিশাত তামান্না দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, সভাকক্ষের শোভাবর্ধন প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। স্প্রে যন্ত্র ও টিফিন বক্স ক্রয় করা হলেও এখনও বিতরণ সম্পন্ন হয়নি। তিনি বাকি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কথা দাবি করে সব তথ্যের জন্য দপ্তরের নাজির শাহিন হোসেনের কাছে যোগাযোগ করতে বলেন।

তবে ইউএনও'র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজির শাহিন স্প্রে যন্ত্র বিতরণের অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেও, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবজি বাগানের প্রকল্পের কোনো তথ্য নেই বলে নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার এ বিষয়ে অবগত না থাকা এবং একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য উপকরণ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করায় ইউএনও নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে ওঠা ২৬ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ আরো জোরালো হয়েছে। উন্নয়ন তহবিলের টাকা এভাবে লোপাট হওয়ায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।