• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় নারীসহ দুজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার কাঁচি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৬
ছবির ক্যাপশন:

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার পুলিশ সুপার যশোরের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তের সূত্র ধরে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে।

পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি ও মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘরের কাজ শেষ করে বস্তা ও কাঁচি নিয়ে মাজেদার সঙ্গে মাঠে ঘাস কাটতে যান তিনি। পথে মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলাম সরদারকে তার জমিতে কাজ করতে দেখেন। কিছুদূর এগিয়ে মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার দেখা হয়। মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেসমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফা ও তার মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি মাজেদা দেখে ফেলায় সে তাদের ডাক দেয়। পরে মোস্তফা কলমি শাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও আলেককে ঘেরের পাশে নিয়ে যায়। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেককে আঘাত করে। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে আঘাত করে পুরোনো সেচ মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও শ্বাস নিতে দেখে মোস্তফা কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পায়ে আঘাত করে। পরে দুজনের মরদেহ সেচ মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। আলেক মারা যাওয়ার পর তার শরীরের ওপর গামছা ঠিক করে দেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলা হয়।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম ও মোস্তফা কামাল কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার বাসিন্দা। জেসমিনের স্বামী নুর ইসলাম সরদার। মোস্তফা কামাল মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।