• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৩ লাখ টাকার ওষুধ গায়েব


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৪৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর থেকে ফার্মেসিতে নেওয়ার পথে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ওষুধের হিসাবে গরমিল থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ওষুধ গায়েবের ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের সরবরাহ নেই বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ফলে রোগীরা হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে বিনামূল্যে এই অ্যান্টিবায়োটিক পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধটি কিনতে হচ্ছে তাদের।

ওষুধ গায়েবের ঘটনায় সন্দেহের তীর উঠেছে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ জহুরুল ইসলামের দিকে। তবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন জহুরুল ইসলাম।

হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর ও ফার্মেসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন ফার্মাসিস্ট জহুরুল ইসলাম মেডিসিন স্টোরের রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গ্রহণ করেন। কিন্তু ফার্মেসির রেজিস্টারে ওই ওষুধ যথাযথভাবে জমা ও খরচের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতালের আউটডোরেও গত প্রায় দুই মাস ধরে কেফুক্লেভ ট্যাবলেট সরবরাহ না থাকায় রোগীরা হাসপাতাল থেকে ওষুধটি পাচ্ছেন না। তাদের বাইরের ওষুধের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। আউটডোরে কর্মরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেফুক্লেভ উন্নতমানের একটি অ্যান্টিবায়োটিক। বুক ও গলার ইনফেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি কার্যকর।
হাসপাতালের আউটডোরে দায়িত্ব পালনকারী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. এএইচএম মনজুর উদ্দিন বলেন, ‘গত প্রায় দুই মাসের মধ্যে আউটডোরে কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের সরবরাহ নেই। ফলে এই ওষুধটি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লিখতে পারছি না।’

স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেফুক্লেভ গ্রুপ ও মানের অ্যান্টিবায়োটিকের বাজারমূল্য প্রতি পিস প্রায় ৬০ টাকা। সে হিসাবে ৫ হাজার ট্যাবলেটের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওষুধ গায়েব হওয়ার বিষয়টি মূলত গত দুই-তিন দিন আগে জানাজানি হয়। হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফার্মেসি ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম বিভিন্নভাবে রেজিস্টারের হিসাব সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন। এমনকি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কেফুক্লেভ সংগ্রহ করেও ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওষুধের হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার হাসপাতালের আরএমও হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা বলেন, ‘বিশেষ করে আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক, যেসব ওষুধ দামি, সেগুলো আমরা সবসময় মনিটর করার চেষ্টা করি, রোগীরা ঠিকমতো পাচ্ছে কি না। তবে বিগত কয়েকদিন ধরে আমাদের কিছু ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে। যেমন ওষুধ স্টকে আছে, কিন্তু ডাক্তার লেখার পর রোগীরা পাচ্ছে না। এ বিষয়ে কিছু গরমিল আছে। তদন্ত করছি, কোথায় কী ঝামেলা আছে।’

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি, কেফুক্লেভ ওষুধের হিসাবে কিছু গরমিল হয়েছে। এ বিষয়ে ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ জহুরুলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। আমরা স্টক রেজিস্টার ও ফার্মাসিস্টের রেজিস্টার পর্যালোচনা করছি। সে অনুযায়ী ঘটনা প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্তে শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের হিসাবের গরমিল কীভাবে হয়েছে এবং এর পেছনে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম রয়েছে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।