বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যোগ্য আবেদনকারীর ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সাত্তার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান। আব্দুস সাত্তার বাঘারপাড়ার ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি নীতিমালার সব শর্ত মেনে 'মেসার্স ইরা ট্রেডার্স, খলশী বাজার'-এর নামে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন (যার ট্র্যাকিং নম্বর: বাঘারপাড়া-৫৯)। তবে সঠিক মূল্যায়ন না করে তাঁকে বঞ্চিত করায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দোহাকুলা ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আব্দুর রশিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও পূর্বে ডিলারশিপ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আব্দুর রশিদ বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমানের ভাই। এছাড়া তিনি পূর্বে থেকেই 'জিএম ট্রেডার্স' নামে সার ডিলারশিপের ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন আব্দুস সাত্তার।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি একাধিকবার ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। নতুন ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা প্রকাশ্যে যাচাই করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও সার বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান আব্দুস সাত্তার। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :