• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০
ছবির ক্যাপশন:

ক্রীড়া প্রতিবেদক:
আকাশি-সাদা জার্সিতে অবশেষে শেষ হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর ও মহাকাব্যিক পথচলা। জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। শেষবারের মতো দেশের হয়ে মাঠে নেমে আফ্রিকান দেশ বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই অধ্যায়ের ইতি টানেন বিশ্বজয়ী মহাতারকা।

ম্যাচের জয় কিংবা ফলাফলকে ছাড়িয়ে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ৮৫ হাজার দর্শকের চোখ ছিল শুধুই প্রিয় অধিনায়কের ওপর। বিদায়লগ্নে বুয়েনস আইরেসের সবুজ গালিচায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা, প্রাপ্তি-অপোছায়, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত এক বিদায়ী বক্তব্য দিয়ে পুরো বিশ্বকে কাঁদালেন মেসি।

ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৭ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তিনি বলেন, “আজ কী বলব, সত্যিই বুঝে উঠতে পারছি না। মাথার ভেতর একসঙ্গে কত স্মৃতি, কত আবেগ ঘুরছে! আজ সবার আগে বাবার কথাই মনে পড়ছে। এত বছর এই জাতীয় দলের জার্সি পরতে পেরেছি, এর চেয়ে বড় সম্মান আমার কাছে আর কিছু হতে পারে না।”

জাতীয় দলের হয়ে কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমি কখনো হাল ছাড়িনি। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দল থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি এবং এই জার্সির জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি।”

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে আর এখানে আসতে না পারাটা খুব কষ্টের হবে। আমার ইচ্ছে ছিল যতদিন সম্ভব এখানেই থেকে যাই, তবে মনে হচ্ছে সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময়। এই আকাশি-সাদা জার্সি পরে আর মাঠে ফিরতে না পারার অনুভূতিটা সত্যিই বেদনার।”

বিগত কাতার বিশ্বকাপ ও পরবর্তী সময়ের ধকলের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই আসরটি শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইসহ নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে কীভাবে দল ঐক্যের শক্তিতে সফল হয়েছিল, তা স্মরণ করেন তিনি।

বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ী এই অধিনায়ক তাঁর সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমার ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে তারা সাহায্য করেছে। মাঠ ও মাঠের বাইরের এই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের সেরা সম্পদ। সমর্থকদের ভালোবাসার কথা বলে শেষ করা যাবে না। আপনারা আমাদের এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে, বিশ্বের যেখানেই খেলি না কেন—সবসময় মনে হয়েছে নিজেদের ঘরের মাঠেই আছি।”

জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সাফল্য ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব দিয়ে মেসি বলেন, “আমরা যখন একসঙ্গে থেকেছি, তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়েছি। আগামীতে কঠিন সময় আসতে পারে, তখন এই তরুণ দলটির পাশে আরও বেশি করে দাঁড়াতে হবে।”

বক্তব্যের শেষভাগে কান্নাসজল চোখে মেসি বলেন, “এই মাঠ, এই সবুজ গালিচা, এই জার্সি ছেড়ে চলে যেতে মন চাইছে না। আমি শুধু বলতে চাই—আমি আপনাদের ভালোবাসি। একজন আর্জেন্টাইন হয়ে জন্মাতে পেরে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি গর্বিত।”

বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত রূপ নিয়েছিল মেসির অর্জনের উদযাপনে। বিদায় নিলেও ৮৫ হাজার গ্যালারিভরা দর্শকের করতালিতে স্পষ্ট—আর্জেন্টাইন ফুটবলের হৃদয়ে ‘এলএমটেন’ থাকবেন আজীবন।