• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

দেশে ই-সিগারেট ও তামাকের অনলাইন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :  
দেশে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করছে সরকার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে এবং তামাকপণ্যের যেকোনো ধরনের প্রচার ও প্রদর্শন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন অধ্যাদেশে উদীয়মান তামাক পণ্য যেমন—ই-সিগারেট (ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম) এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি নিকোটিন পাউচকেও তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এখন থেকে দেশে আর বৈধভাবে বাজারজাত করা যাবে না।

তামাকজাত পণ্যের প্রচার বন্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা দোকানের তাকে তামাকজাত পণ্য সাজিয়ে রাখা যাবে না। দোকানে দৃশ্যমানভাবে পণ্য প্রদর্শন এবং অনলাইন প্রচারণাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তামাকপণ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ সতর্কবার্তার পরিবর্তে এখন থেকে ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহণে শুধু ধূমপান নয়, সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (Smoking Zone) রাখার বিষয়টি এখন থেকে সরকারের শর্তাধীন থাকবে। অর্থাৎ সরকার চাইলে যেকোনো সময় এসব স্থান বাতিল বা সীমিত করতে পারবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। ক্যান্সার, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস জটিলতার অন্যতম কারণ এই তামাক। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষ হলেই অধ্যাদেশটি জারি করা হবে। তিনি বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ।” মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান যোগ করেন, নতুন এই আইন কার্যকর হলে তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বড় ধরনের সুরক্ষা পাবে।