এসএসসি পুনঃনিরীক্ষা: মূল্যায়নের ভুলে বদলে গেল হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫
এম. এ. আলিম খান:
একটি নম্বর—কারো কাছে সামান্য মনে হলেও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে তা স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি কিংবা স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে। পরীক্ষার ফল শুধু কিছু সংখ্যা নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে পরিবার ও শিক্ষার্থীর দীর্ঘ পরিশ্রম। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষা ও পুনঃমূল্যায়নের সদ্য প্রকাশিত ফলাফল সেই কথাই প্রমাণ করল। ভুলের সংশোধনী এনে হাজারো শিক্ষার্থী ফিরে পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও স্বপ্ন দেখার সাহস।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত এসএসসি পুনঃনিরীক্ষার ফলে দেখা যায়, রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী লাভবান হয়েছেন। এ বছর ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে পাস করেছিলেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন (পাসের হার ৬২.২৫%)। মূল ফলাফলের অসঙ্গতি দূর করতে দেশের প্রায় ২২ শতাংশ অর্থাৎ ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন জানান।
অকৃতকার্য থেকে কৃতকার্য: ১১টি বোর্ডে ফেল করা মোট ৪,৫৮৫ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছেন। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড (১,১৮০ জন), আর সর্বনিম্ন বরিশাল বোর্ডে (৭৯ জন)। এছাড়া দিনাজপুর (৮৬৭), কারিগরি (৬৬৪), যশোর (৩৮০), ঢাকা (৩৩৭) ও কুমিল্লায় (৩৩৬) উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য থেকে পাসের তালিকায় এসেছেন।
নতুন জিপিএ-৫ প্রাপ্তি: পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে ৩,০৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এ ক্ষেত্রে ৯০৬ জন নতুন জিপিএ-৫ নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, যার পরেই ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান (৭৭৭ জন)।
গ্রেড ও নম্বর পরিবর্তন: সারা দেশে মোট ২৭,৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে, যার মধ্যে একাই ঢাকা বোর্ডে ৮,৯৯৯ জনের (৩২.৩৩%) নম্বর ও গ্রেড বদলেছে। এছাড়া ১১টি বোর্ডে সর্বমোট ৫৬,২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বর বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষার এই বিশাল পরিবর্তন একদিকে যেমন হতাশা দূর করে বহু পরিবারে আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে, অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরীক্ষকদের সামান্য অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কত হাজার তরুণ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছিল, এ পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
প্রযুক্তির যুগে পরীক্ষকদের খাতা দেখার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করা এখন সময়ের দাবি। ফল যাই হোক না কেন, ভুলের সঠিক সংশোধনী যেমন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে দেয়, ঠিক তেমনি প্রমাণ করে—একটি ভুল সাময়িক বাধা হতে পারে, কিন্তু একটি সুযোগেই তরুণরা আবার নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
(লেখক: সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর, ভাব বাংলাদেশ)
আপনার মতামত লিখুন :