• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে যুবদল সম্পাদকে বিরুদ্ধে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:২৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা বাজারে এক তরুণীকে (২১) পানীয়ের সঙ্গে চেতনা নাশক খাইয়ে গণধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই তরুণীকে হাসপাতাল থেকে গোপনে সরিয়ে রাখা এবং পরিবারকে ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী মনিরামপুর উপজেলার টুনিয়াঘরা গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। রামনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন (৩৫) সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ডালিম তাকে কুয়াদা বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় ডেকে আনে। সেখানে তাকে তরল পানীয় পান করানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জ্ঞান হারান। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় পান এবং বুঝতে পারেন যে তাকে গণধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে আপত্তিজনক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা। অভিযোগে উল্লেখিত অন্য বিবাদীরা হলেন, জয় (২৪), মেহদী (৩০),  রবিউল (৩৫) এবং গোলাম (২৭)।

জানা গেছে, ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ আগস্ট তরুণীকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গণমাধ্যমের কাছে তথ্য প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় ২৯ আগস্ট ভোরে তাকে নিয়মমাফিক ছাড়পত্র (রিলিজ) না নিয়েই জোরপূর্বক খুলনার একটি বাসায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মূল অভিযুক্ত রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে গড়িমসি করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা শঙ্কা তীব্র হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি অভিযোগে উল্লেখিত তরুণীর মুঠোফোন নম্বরটিও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভুক্তভোগীর বাবা হাফিজুর রহমান এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি উপ পরিদর্শক অমিত কুমার তদন্ত করছেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভুকি পরিবার  মামলা করতে চাইলে করতে পারবেন।

এদিকে, এক তরুণীর ওপর এ ধরনের নৃশংসতা ও গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।