• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মিলছে না জলাতঙ্ক রোগের টিকা, বিপাকে আক্রান্তরা


FavIcon
Simanto
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 11, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ad728

অভয়নগর প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলছে না বিনামূল্যে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) রোগের টিকা। গত শনিবার (৯ আগস্ট) মজুদ শেষ হওয়ায় টিকাদান বন্ধ রাখা হয়েছে। চড়া মূল্যে ফার্মেসি থেকে টিকা ও সিরিঞ্জ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। যে কারণে বিপাকে পড়ছেন আক্রান্ত অনেকেই। 
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলাতঙ্ক রোগের টিকা বা ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ হওয়ার আগেই সরবরাহ করা প্রয়োজন ছিল। পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ এই মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
সরেজমিনে সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, কুকুর ও বিড়ালের কামড়-হাচড়ে আক্রান্ত কয়েকজন রোগী জরুরী বিভাগে বসে রয়েছেন। টিকা না থাকায় দুশ্চিস্তায় রয়েছেন তারা। দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীর টেবিলে নোটিশ লেখা রয়েছে, ‘জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) রোগের টিকা সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকায় দুঃখিত। আক্রান্ত রোগীদের নিজ দায়িত্বে টিকা কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ সেই নোটিশ দেখিয়ে বাইরে থেকে টিকা কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এজন্য চারজন রোগীকে একত্রিত হয়ে এক ভাওয়েল ভ্যাকসিন/ টিকা কিনতে হচ্ছে। অনেকের কাছে টাকা না থাকায় টিকা না দিয়ে ফির যাচ্ছেন বাসায়।
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ৭ বছর বয়সী সোহানের পিতা মেহেদী ইসলাম বলেন, বাড়ির সামনে খেলা করার সময় ছেলেকে কুকুর আক্রমন করে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে জানতে পারি টিকা শেষ হয়ে গেছে। আরো ৩ জন রোগীর অপেক্ষায় জরুরী বিভাগে বসে আছি।
গুয়াখেলা গ্রামের মীর আলী সরদার (৪০) বলেন, বাড়ির পোষা বিড়াল কামড় ও হাচড় দিয়েছে। ভ্যাকসিন নিতে এসে শুনি শেষ হয়ে গেছে। এক ঘন্টা অপেক্ষার পর ৪ জন রোগী হয়েছে। হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মেসি থেকে ৪৬০ টাকায় এক ভাওয়েল টিকা কিনেছি। এছাড়া ৪টি সিরিঞ্জও কিনতে হয়েছে। ৪ জন রোগীকে প্রথম ডোজ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। অস্বচ্ছল পরিবারের জন্য এই টিকা ও সিরিঞ্জ কেনা কষ্টের ব্যাপার। দুঃখের বিষয় সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নেই।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজিব বলেন, ‘২০২৪/২৫ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদ থেকে ৬৪০ ভাওয়েল (পিস) ভ্যাকসিন পেয়েছিলাম। এক ভাওয়েল ভেঙে ৪ জন রোগীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। একজন রোগীকে তিনবার টিকা দিতে হয়। টিকা শেষ হওয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী ফিরে যাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’   
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল বলেন, ‘জলাতঙ্কের টিকা/ র‌্যাবিস ভ্যাকসিন শেষ হওয়ার খবর পেয়েছি। নতুন করে টিকা কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’