• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোর ইনস্টিটিউটে 'ভ্রাম্যমাণ বইমেলা'র উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৫
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসন, যশোরের যৌথ উদ্যোগে এবং যশোর ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ২০২৬’। শনিবার (১৫ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

​মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্য ও পাঠাভ্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের এত বিশাল ও সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে, এটি সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের এখানে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে, যাতে তারা এসে এসব সংগ্রহ দেখতে পারে। এতে তারা বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।”

​নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যশোর ইনস্টিটিউটের সাথে আমার গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। এই প্রাঙ্গণেই ছিল আমার জীবনের প্রথম প্রাথমিক স্কুল এবং এখানেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। একসময় যশোর শহরের এমন কোনো শিক্ষিত পরিবার ছিল না, যা যশোর ইনস্টিটিউটের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারের পুরুষ সদস্যরা না হলেও অন্তত নারী সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে যেতেন।


​বর্তমান সময়ের ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সবাই অতিরিক্ত মাত্রায় ডিজিটাল ডিভাইস-নির্ভর হয়ে পড়েছে, যার ফলে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এই সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে আমাদের আবারও বইয়ের পাতায় ফিরে যেতে হবে।

​বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বিভিন্ন বই নিয়ে প্রতিযোগিতা ও কুইজের আয়োজন করত, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বই সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ পেত। সরকার আবারও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যুক্ত হয়ে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের মাঝে পাঠাভ্যাস ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।

​যশোর ইনস্টিটিউটের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের পর সংস্কৃতি মন্ত্রী যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ‘তসবি মহল’ সিনেমা হল এবং বীর সরকার মেমোরিয়াল ঘূর্ণায়মান মঞ্চের সংস্কারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া টাউন ক্লাব মাঠ ও ইউনাইটেড ভবনের সংস্কারের বিষয়েও ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদেই যশোর ইনস্টিটিউটে একটি বড় ও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

​অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, যশোর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

​উল্লেখ্য, আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বসাধারণের জন্য এ বইমেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গাড়িসহ দেশ-বিদেশের বৈচিত্র্যময় বইয়ের পসরা সাজানো হয়েছে।