কেশবপুরে ইউএনওর কথা বলে বিএনপি নেতার ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬, ৬:৫৫
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ এনেছেন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী তাসের আলী।
সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী পৌরসভার মধ্যকুল মৌজার আসাদুজ্জামান খান, ইকরামুছ সালাম খান ও পারভেজ হাসান খানের নিকট থেকে অগ্রীম জামানত দিয়ে মাসিক ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা করার লক্ষ্যে ট্রাক টার্মিনালে উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ শুরু করি। এখানে ইটের গাঁথুনির কাজও শেষ করা হয়। কাজ শেষে প্রায় ২ মাস পর ইটের গাঁথুনীর উপর ছাউনীর কাজ আরম্ভ করলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোটিশের মাধ্যমে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর মধ্যকুল গ্রামের মৃত আব্দুল করিম খানের ছেলে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু আমাকে ডেকে বলে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। মোতাওয়াল্লী সালাম ও আসলাম এখন কিছুই না। মোতাওয়াল্লী সালাম খান ওয়াকফ সম্পত্তির একটি গাছ না কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন। আমরা মসজিদ কমিটির লোক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলে সেই গাছ কাটার অনুমতি এনে দিয়েছি। আমি মসজিদের সেক্রেটারী ও আমার ভগ্নিপতি মোজাম্মেল খান সভাপতি। এখন থেকে ভাড়ার টাকা আমাদের নিকট দিতে হবে। এরপর থেকে আমি ঘরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডাবলু খানের নিকট যোগাযোগ করি।
এক পর্যায়ে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু কোরবানির ঈদের আগের শনিবার আমার কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে কাজ করার অনুমতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে ছাউনীর কাজ শুরু করার জন্যও বলে। আমি ডাবলু খানের কথামত কাজ শুরু করি। তার (ডাবলু খানের) দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় কাজে বাঁধাসহ আমার আপন ভাই কেশবপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে তাদের সম্মানহানী করে চলেছে। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হওয়ায় দল এবং প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু বলেন, টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ঘর নির্মাণ করা যাবে না। যে কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
আপনার মতামত লিখুন :