ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে যশোরে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬, ০৭:৫২
স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা, আর্থিক অনিয়ম ও মালিকানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে যশোরে বিশাল মানববন্ধন ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘৩ কোটি গ্রাহকের আমানত ও আস্থা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ চাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ১০টায় শহরের আর এন রোডস্থ ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, আলেম-ওলামা ও সাধারণ গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ এই স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়—এটি দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিকে ঘিরে নানা অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন, ঋণ কেলেঙ্কারি ও অস্বচ্ছতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি অশুভ চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংককে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আমানত ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— গত এক দশকে ব্যাংকের বড় বড় ঋণ প্রদান, মালিকানা পরিবর্তন, আর্থিক লেনদেন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ‘ফরেনসিক অডিট’ পরিচালনা করা। বক্তারা বলেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও শ্বেতপত্র প্রকাশ না করলে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জনগণের আমানতের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দল-মত ও ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার, সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকদের বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে নিয়মিত স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনীতিবিদ ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারে একটি ‘জাতীয় রোডম্যাপ’ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
গ্রাহকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য জড়িত। তাই আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
আপনার মতামত লিখুন :