• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ঈদুল আজহার প্রস্তুতিতে যশোর জেলা প্রশাসন: ২৪ ঘণ্টায় বর্জ্যমুক্ত করার মহাপরিকল্পনা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬, ১৪:৩৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সুষ্ঠু, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, চামড়া সংরক্ষণ ও পাচার রোধ, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোরবানির পশুর হাট কোনোভাবেই জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে বসানো যাবে না। যানচলাচল ও জনজীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। অনুমোদিত হাট ছাড়া কোনো ধরনের অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সভায় জানানো হয়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী যশোর জেলায় মোট ৩১টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী হাট ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বাকি ২১টি হাটের ইজারাদারদের নিজ খরচে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হাটে ছিনতাই ও জাল টাকার কারবার রোধে পুলিশ এবং বাজার কমিটিকে নিজস্ব ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমাদের ও সোনালী ব্যাংকের মোট ৫৮টি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন আছে। বাজার কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো হাটে ব্যবহার করা হবে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কোনো প্রকার অতিরিক্ত টোল বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জেলা প্রশাসক।

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘হটলাইন’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে। পবিত্র জুমার নামাজে মসজিদের খতিবদের কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কোরবানির চামড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার ও কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে ৭ দিন চামড়া সংরক্ষণ করার পর ঢাকার মূল ট্যানারিগুলোতে পাঠাতে হবে। তবে আন্তঃবিভাগীয় জেলাসমূহের মোকামে চামড়া বেচা-বিক্রিতে কোনো বাধা থাকবে না। চামড়ার গুণগত মান ঠিক থাকলে প্রতি বর্গফুট চামড়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য ৬২ টাকা বলে সভায় জানানো হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পশু ও চামড়াবাহী গাড়িতে বাধ্যতামূলক ‘মুভমেন্ট ব্যানার’ লাগাতে হবে। এর ফলে পথিমধ্যে পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো প্রকার হয়রানি করবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সভায় যশোর রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কোরবানির দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা বাজারে চামড়া আনা-নেওয়া করবেন, তারা যেন পুলিশি বাধার মুখে না পড়েন। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।

এছাড়াও জেলা রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিনুল মুজিদ পলাশ ও বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আলাউদ্দিন মুকুলসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা সভায় অংশ নেন।