ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার বৈঠক: ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও কুশনার পাকিস্তান যাচ্ছেন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ও একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধি দল। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আজ শনিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই উচ্চপর্যায়ের সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান এবার সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, এই বৈঠক ফলপ্রসূ হবে এবং উভয় দেশ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
এর আগে গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হবু ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে প্রথম দফার সেই দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
লেভিট জানিয়েছেন, এবারের সফরে জেডি ভ্যান্স সরাসরি অংশ না নিলেও তিনি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। আলোচনার প্রয়োজনে যেকোনো সময় তিনি বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারেন।
স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এর আগেও ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবে মধ্যবর্তী সময়ে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় এবং তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'প্রতারণার' অভিযোগ তুলে আলোচনা থেকে সরে গিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায় এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে নির্ধারিত এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে শান্তির নতুন কোনো বার্তা বয়ে আনে কি না।
আপনার মতামত লিখুন :