শহীদ মিনারে ডা. শফিকুরের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট: শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩:৪৮
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
রক্তস্নাত একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে রচিত হলো এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় জোটের শরিকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
রাত ১২টা ১ মিনিটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পৌঁছান। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জোটের নেতারা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য, অতীতের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এভাবে দলীয়ভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের নজির দেখা যায়নি। ফলে এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জামায়াত আমিরের সাথে শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত ও এটিএম আজহারসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে (বা কেবল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে) শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপরই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি দেশজুড়ে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :