• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বন্ধ হচ্ছে ‘পুনর্ভর্তি ফি’, সব লেনদেন হবে অনলাইনে: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬:৩৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও লুটপাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, একবার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সময় কোনোভাবেই ‘পুনর্ভর্তি ফি’ আদায় করা যাবে না।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের যেকোনো আর্থিক অনিয়মের জন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক) যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। এমনকি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর পুরনো কোনো অনিয়ম ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে এমপিও স্থগিত বা বরখাস্তের মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তারা। এছাড়া অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটি (গভর্নিং বডি) বাতিল করার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করবে সরকার।

ভর্তি ফি, টিউশন ফি বা বোর্ড পরীক্ষার ফিসহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) বা যেকোনো সরকারি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করে এই লেনদেন সারতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই নগদ টাকা গ্রহণ করা যাবে না। নগদ টাকা গ্রহণ করা হলেও তা পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

দৈনন্দিন খুচরা খরচের জন্য প্রতিষ্ঠানের ধরনভেদে মাসে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে একক কোনো ভাউচারে ২৫ হাজার টাকার বেশি নগদ খরচ করা যাবে না; এর বেশি হলে অবশ্যই ‘ক্রস চেক’ ব্যবহার করতে হবে। আর্থিক কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ, ক্রয়, উন্নয়ন ও অডিটসহ মোট ছয়টি উপকমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) একটি ‘ই-ক্যাশ বুক’ সিস্টেম তৈরি করবে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের সব ভাউচার এন্ট্রি করতে হবে। তবে মানবিক কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রয়োজনে তারা সর্বোচ্চ ৬ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা অগ্রিম বা ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে কিস্তিতে বেতন থেকে সমন্বয় করা হবে।

উল্লেখ্য, এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০২৩ সালে জারি করা আগের নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।