"সংসদ বর্জন নয়, এবার ‘ছায়া মন্ত্রী’! রাজনীতির নতুন এই চালে চমক কার?"
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০২
রিফাত আহম্মেদ হিমেল :
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একটি ঘোষণা। সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’(Shadow Cabinet) গঠনের ঘোষণা দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে দলটি।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটসহ ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি এবং জোটসহ মোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুললেও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় জয় মেনে নিয়েছে দলটি।
ছায়া মন্ত্রিসভার ঘোষণা
নির্বাচনের মাত্র দুদিন পরেই সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত নেতা শিশির মনির তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদও একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আসলে এই ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
এটি মূলত ওয়েস্টমিনস্টার (ব্রিটিশ) সংসদীয় পদ্ধতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিকল্প মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দলের একজন সদস্য ‘ছায়া মন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি মন্ত্রী যখন কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতি গ্রহণ করেন, ছায়া মন্ত্রী তখন তার বিশ্লেষণ করেন এবং ত্রুটি থাকলে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এর কাজ ও গুরুত্ব
ছায়া মন্ত্রিসভার মূল কাজ হলো প্রকৃত মন্ত্রিসভার কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অংশীজনদের সাথে কাজ করা। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সংসদে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি বিরোধী দলকে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার জন্য আগাম প্রস্তুত হতেও সাহায্য করে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন হাওয়া
বাংলাদেশের ইতিহাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এমনকি দেশের সংবিধানে এর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বিরোধী দলের ‘সংসদ বর্জন’ বা ‘রাজপথের আন্দোলনের’ যে পুরনো সংস্কৃতি রয়েছে, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করলে তা অনেকটাই পাল্টে যাবে। এটি সংসদকে আরও প্রাণবন্ত করবে এবং সরকারের ওপর একটি কার্যকর তদারকি বজায় রাখবে। ফলে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের কাজের ব্যাপারে আরও সচেতন থাকবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।
আপনার মতামত লিখুন :