মনিরামপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও বাংলোর এসি হাঁপিস !
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৭
আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর :
যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাংলো থেকে দুটি এসি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাবেক ইউএনও নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, নিশাত তামান্না মনিরামপুর ছাড়ার আগ মুহূর্তে নিজে লোক ভাড়া করে এসি দুটো খুলে নিয়েছেন।
গোপন সংবাদে জানতে পেরে গতকাল রোববার উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে এসি খোলার নমুনা পাওয়া গেছে। এসময় নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে বাংলোর সরকারি মালামাল খুলে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
ইউএনও নিশাত তামান্না মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি হয়ে গত ২ ডিসেম্বর রাতে মনিরামপুর ছেড়েছেন। তার স্থানে ইউএনও হয়ে এসেছেন ঢাকার ওয়াশায় কর্মরত থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সম্রাট হোসেন।
ইউএনও দপ্তরের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর ছাড়ার কয়েক দিন আগে নিশাত তামান্না নিজে লোক ভাড়া করে উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তরের একমাত্র এসি খুলে নিয়ে বাংলোতে রাখেন। এরপর তিনি মনিরামপুর ছাড়ার আগ মুহূর্তে বাংলোর সরকারি এসি, সিলিং ফ্যান খুলে নেন। সাথে তিনি বাংলোর ইউএনও দপ্তরের কিছু আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলেন।
নতুন কর্মস্থলে চলে যাওয়ায় এই বিষয়ে নিশাত তামান্নার বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে ইউএনও দপ্তরের নাজির শাহিন আলম বলছেন, নিশাত তামান্না স্যার বাংলো ছাড়ার পর নতুন স্যারের নির্দেশে একটি রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে আমি বাংলোতে যাই। সেখানে গিয়ে সরকারি মালামালের একটি তালিকা করেছি। কিছু মালামাল নিশাত তামান্না স্যার
বাংলোর দুটি কক্ষে রেখে তালাবন্ধ করে গেছেন। এরপর বাংলোতে কিছু কাজ করানোর পর নতুন ইউএনও বাংলোতে উঠেছেন।
শাহিন আলম বলেন, অন্য ইউএনও স্যারেরা চলে যাওয়ার সময় আমাদের সহায়তা নেন। আমরা তাদের মালামাল গুছিয়ে গাড়িতে তুলে দিই। নিশাত তামান্না স্যার আমাদের কিছু না বলে বাইরের লোকজন দিয়ে মালামাল খুলেছেন।
শাহিন আলম বলেন, বাংলোর কাজের বুয়া ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিশাত তামান্না স্যার দুই পিকআপে মালামাল ভরে দেশের বাড়ি পিরোজপুরে নিয়ে গেছেন। কিছু মালামাল বাংলোতে দুটি কক্ষে তালাবন্ধ করে গেছেন। দুটো এসিসহ সরকারি মালামাল তালাবন্ধ দুই কক্ষে আছে বলে জানতে পেরেছি।
এদিকে গতকাল রোববার উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে দপ্তরের দুটি এসি খুলে নেওয়ার নমুনা পাওয়া গেছে। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস সহকারী তরুন কান্তি হালদার বাপনকে কম্পিউটারে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা গেছে। এসি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাপন বলেন, অফিসে ওয়ালটন কোম্পানির ১.৫ টনের দুটো এসি ও একটি বড় টেলিভিশন ছিল। ৫ আগস্টের পর নাজির শাহিন সেগুলো খুলে নিয়ে গেছেন। পরে আমি আমাদের অন্য অফিসে থাকা ওয়ার্লপুল ব্রান্ডের ১.৫ টনের একটি এসি ও টেলিভিশন খুলে এনে এই অফিসে লাগিয়েছি। নিশাত তামান্না স্যার লোক পাঠিয়ে সেই এসি খুলেছেন। টেলিভিশনটা আছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাজির শাহিন আলম বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নতুন কক্ষের ভিতরে সজ্জিত করার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে। তখন কক্ষে ১.৫ টনের দুটি এসি ও একটি বড় টেলিভিশন স্থাপন করা হয়। কাজ শেষে বিল উত্তোলনের আগে ৫ আগস্ট ঘটে যায়। পরে আর বিল তুলতে না পারায় তৎকালীন ইউএনও জাকির হোসেন স্যার নিজ থেকে পাওনাদারদের বিল মিটান। সেই সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে স্থাপন করা এসি দুটো ও টেলিভিশন খুলে বিক্রি করে দেনা শোধ দেওয়া হয়েছিল।
শাহিন আলম বলেন, পরে আবার উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে আগের অফিস থেকে এনে একটি এসি লাগানো হয়েছে। সেটা নিশাত তামান্না স্যার মিন্ত্রি ডেকে খুলে নিয়েছেন। এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, বাংলোতে এসে আমি কোন এসি পাইনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে এসি না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।
ইউএনও সম্রাট হোসেন আরও বলেন, ইউএনও স্যার কিছু মালামাল নিয়ে গেছেন। আরও কিছু মালামাল বাংলোতে তিনি রেখে গেছেন। সেই মালামাল নেওয়ার সময় আমরা বিষয়টি সেইভাবে দেখব।
আপনার মতামত লিখুন :