"এত মানুষ হত্যার পরও শেখ হাসিনার আচরণে অনুশোচনা নেই": চিফ প্রসিকিউটর
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫৬
স্বপ্নভূমি ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণে জুলাই-আগস্টের ব্যাপক হত্যার ঘটনায় 'সামান্যতম অনুশোচনা নেই' বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার সমাপনী দিনে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের সর্বশেষ বক্তব্য উপস্থাপন করে।
অনুশোচনাহীন আচরণ ও হুমকি: চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, "চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এতগুলো মানুষ হত্যার পর বাংলাদেশে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। যেভাবে তিনি এত সংখ্যক মানুষকে আহত বা অঙ্গহানি করেছেন, বাংলাদেশকে বদ্ধভূমিতে পরিণত করেছিলেন এর জন্য কোনো অনুশোচনা নেই তার (শেখ হাসিনা)।"
উল্টো শেখ হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন— যারা মামলা করেছেন, সাক্ষী দিয়েছেন তাদের হত্যা করার ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনীকে উসকানির চেষ্টা: তাজুল ইসলাম আরও জানান যে, কয়েকদিন আগে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি 'গৃহযুদ্ধ' লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়েছেন যে তোমাদের কিছু কিছু অফিসারের বিচার হচ্ছে, তোমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।"
তবে চিফ প্রসিকিউটর দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, তারা সেই উসকানিতে পা দেয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে, বিচারের প্রক্রিয়ায় তাদের আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী আইনের শাসনের প্রতি তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছেন, ফলে তার (শেখ হাসিনার) এসব উসকানি বিফলে গেছে।
আদালতের প্রতি আবেদন ও রায় ঘোষণা: মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, "এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা প্রমাণ করেছেন যে তাদের সামান্যতম অনুশোচনা নেই। অনুশোচনাহীন এমন হত্যাকারীদের ব্যাপারে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ থাকা উচিত যে, তারা কোনো রকমের অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নন। এটাই আমাদের সর্বশেষ বক্তব্য ছিল।"
প্রসিকিউটর বলেন, এ অপরাধের বিচার হচ্ছে 'নেভার এগেইন'— অর্থাৎ বাংলাদেশে যেন কখনো আর এমন ভয় ও আতঙ্কের দিন ফিরে না আসে, শিশুদের যেন রাজপথে জীবন দিতে না হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ রয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
আদালত আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যেদিন রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :