সৌদি দুম্বার মাংস বিতরণে মনিরামপুরে অনিয়ম: ৪ কার্টুনের হিসেব নেই, ৪ ইউনিয়ন বঞ্চিত
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৩
মনিরামপুর প্রতিনিধি :
সৌদি সরকারের দেওয়া কোরবানির দুম্বার মাংস বিতরণে যশোরের মনিরামপুরে অনিয়ম ও গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।
মনিরামপুরের জন্য বরাদ্দের ৪৭ কার্টুনের মধ্যে চার কার্টুন মাংসের হিসেব মিলছে না। এদিকে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে দুস্থদের মাঝে এই মাংস বিতরণের কথা থাকলেও রোহিতা, নেহালপুর, কুলটিয়া ও মনোহরপুর ইউনিয়নকে বঞ্চিত করা হয়েছে দুম্বার মাংস থেকে। বিতরণ যা করা হয়েছে তার তালিকায়ও রয়েছে গরমিল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে দেওয়া বিতরণের তালিকা দেখে এসব অনিয়মের তথ্য মিলেছে।
এদিকে উপজেলায় এনে দুম্বার মাংস বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তা না করে যশোর জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে রাতে এই মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের দেওয়া দুম্বার মাংস এবার মনিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ এসেছে ৪৭ কার্টুন। প্রতি কার্টুনে মাংস এসেছে ১০ প্যাকেট করে। সেই হিসেবে মনিরামপুরের জন্য বরাদ্দ ৪৭০ প্যাকেট।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর মনিরামপুরের ৫০টি মাদরাসা ও এতিমখানার দায়িত্বশীলদের মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যশোর জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে দুম্বার মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে পাওয়া বিতরণ তালিকায় দেখা গেছে, উপজেলার ৫০টি মাদরাসা ও এতিমখানার দায়িত্বশীলদের ডেকে ৩৫০ প্যাকেট মাংস বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ১২০ প্যাকেট তথা চার কার্টুন মাংসের হিসাব নেই বিতরণের এই তালিকায়। বিতরণের তালিকায় নাম নেই রোহিতা, কুলটিয়া, নেহালপুর ও মনোহরপুর ইউনিয়নের কোন মাদরাসা ও এতিমখানার।
মাংস বিভাজনের তালিকার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মশ্মিনগর ইউনিয়নে ৮টি মাদরাসায় ৪৩ প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নের প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না। আর চালুয়াহাটি ইউনিয়নে ৬টি মাদরাসায় ৪৪ প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নের প্রশাসক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
এদিকে পিআইও দপ্তরের দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, উপজেলার রামপুর শাহপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় চার প্যাকেট মাংস বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু মাদরাসার হিসাবরক্ষক আলী হাসান জানিয়েছেন, তারা তিন প্যাকেট দুম্বার মাংস পেয়েছেন।
এসব বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ কার্টুনে ১০ প্যাকেট করে মাংস পাওয়া যায় নি। সেসব প্যাকেট পাওয়া গেছে ৭ থেকে ৮ প্যাকেট করে মাংস । যতগুলো প্যাকেট পাওয়া গেচে সবগুলো মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
চারটি ইউনিয়নে দুম্বার মাংস না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিআইও বলেন, আমাদের কাছে যতগুলো মাদরাসার তালিকা আছে। তাদের সবাইকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে। অনেকে ফোন ধরেননি। আবার অনেকে খবর পেয়েও মাংস নিতে আসেননি।
এদিকে প্রথম বারেরমত দুম্বার মাংস খেতে পেরে খুশি উপজেলার মাসুদকাটি এলাকার মদীনাবাগ কারীমিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক ফরিদ পাটোয়ারি বলেন, এবারই আমরা প্রথমবারের মত ৬ প্যাকেট দুম্বার মাংস পেয়েছি। শুক্রবার দুপুরে সেই মাংস রান্না করে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না বলেন, আমি ঢাকাতে প্রশিক্ষণে ছিলাম। মনিরামপুরে ফিরে দুম্বার মাংস বিতরণের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।
আপনার মতামত লিখুন :